top of page
Search

রীতি-নীতি বড় নাকি ভক্তি বড়

Oct 10
2 min read

সুখী নামক একটি শান্ত গ্রামের মন্দিরে ভোর বেলায়,দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজভাবে ভগবানের রীতি-নীতি ও ভক্তি দ্বারা ভগবানের সেবা  করতে ছিল।

মানুষ ভগবানকে পাওয়ার জন্য কত পথই না অনুসরণ করে। কেউ রীতি-নীতি মানে, কেউ ভক্তিতে নিজেকে সমর্পণ করে।কিন্তু সত্যিই কি ভগবানকে পাওয়ার পথ আলাদা আলাদা আছে, নাকি একি এই বিষয় নিয়ে? প্রত্যেকদিন দুই দলের কয়েকজন  মানুষ মুখোমুখি  দাঁড়িয়ে  শান্তভাবে  তর্ক করতে থাকতো।কিন্তু একদিন দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তর্ক শুরু হলো— ভগবানকে  পাওয়ার পথ কোনটি বড়? রীতিনীতি, নাকি ভক্তি?এই বিষয়ের ব্যাপার নিয়ে। এক সম্প্রদায়ের  মানুষ ভক্তি করতে করতে ভগবানকে নিজের হৃদয়ে স্থান দিয়েছিল। আর অন্য সম্প্রদায়ের  মানুষ নানা রীতি-নীতি ও আচারআচরণ পালন করতে করতে মনে করেছিল, এটাই ভগবানকে  পাওয়ার একমাত্র পথ।


একজন বলল, “রীতি-নীতি পালন করলেই ভগবানকে পাওয়া যায়, এটি ভগবানের কাছে  পৌঁছানোর  সঠিক পথ।

অন্যজন বলল, “না,ভগবানের প্রতি হৃদয়ের সত্যিকারের ভক্তিই, ভগবানকে পাওয়ার  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।”

 একদিন দুই দলের মধ্যে ভীষণ বড় তর্ক শুরু হলোঃ—

ভগবানকে পাওয়ার পথ কোনটি বড়, ভক্তি নাকি রীতি-নীতি?এই বিষয় নিয়ে।

 

তখন একজন জ্ঞানী বৃদ্ধ ব্যক্তি ধীরে ধীরে তাঁদের কাছে এসে দাঁড়ান ,আর মৃদু ভাবে হেসে  বললেন,

“তোমরা দুই দলের লোকেরা ভগবানকে খুঁজছো… কিন্তু ভগবান কি শুধু রীতি-নীতি আর  ভক্তির কথার মধ্যে থাকেন? ”ভগবানকে পাওয়ার জন্য শুধু রীতি-নীতি নয়, শুধু মুখের ভক্তির কথা ও নয়,তার মধ্যে প্রয়োজন আছে একটি ভালো স্বচ্ছ হৃদয়, নিঃস্বার্থতাভরা সত্যিকারের ভালোবাসা, মানবতা ও সৎকর্ম।

 

যেমনঃ বৃদ্ধ অসহায় মানুষকে সাহায্য করা। ক্ষুদার্থ শিশুদেরকে ভালো খাবার দেওয়া।বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদেরকে রাস্তা পার করে দেওয়া,এই প্রকৃতি ও সমাজের মধ্যে অবস্থিত অসহায়  অবহেলিত  মানুষের সাথে জীবজন্তুদের সাহায্য করার জন্য সব সময় অগ্রসর হওয়া।ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, দুঃখী মানুষের চোখের জল মুছে দিয়ে খুশি ও আশার সান্তনা দেওয়া ,এইসব ও তো ভগবানের সেবা।

জ্ঞানী বৃদ্ধ ব্যক্তি  আরও বললেন,

“ভক্তি শুধু প্রার্থনায় নয়। ভক্তি প্রকাশ পায় আমাদের কাজে, আমাদের ব্যবহারে  এবং আমাদের ভালোবাসায়।মানুষের সেবা যদি ভক্তি হয়, আর ভালো কাজ যদি পূজা হয়, তাহলে যে  পথ মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, সেই পথই ভগবানের পাশে পৌঁছানোর সবচেয়ে কাছের পথ।ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসহায়কে সাহায্য করা, দুঃখী মানুষের  পাশে দাঁড়ানো, এসব ও  ভগবানের পূজা।”

তখন মন্দিরের মধ্যে অবস্থিত সবাই নীরব হয়ে ওই জ্ঞানী বৃদ্ধ ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখলো  আর  উনার কথার মধ্য দিয়ে বুঝতে পারলো যে : —

 একজন জ্ঞানী বৃদ্ধ ব্যক্তির মুখ দিয়ে এই সব কথা শুনে নেওয়ার পর, আগের দুই সম্প্রদায়ের মানুষ  একে অপরের দিকে তাকিয়ে খুশির সাথে হেসে মিলেমিশে নিলো। আর তারা সেই সময় নিজেদের ভুল মেনে নিলো, আর একসঙ্গে মিলেমিশে একজন অসহায় মানুষকে সাহায্য ও  করে নিলো।আর একসাথে বোঝার চেষ্টা করলো যে, ভগবানকে কোনো একটি সম্প্রদায়, রীতি-নীতি বা আচার দিয়ে  সীমাবদ্ধ করা যায় না। সত্যিকারের ভক্তি হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা,মানবতা, সহানুভূতি ও নিঃস্বার্থ সেবা এই কথা ওইস্থানে অবস্থিত সবাই মেনে নিল,আর একে অপরের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করে নেওয়ার পর।সবাই একসঙ্গে  হাঁটতে হাঁটতে নিজের নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলো।   


কাহিনীর মূল শিক্ষাঃ- “ভগবান কোনো একটি জাতি,ধর্ম রীতি-নীতি,ভক্তি,সম্প্রদায়  বা পথের  মধ্যে সীমাবদ্ধ নন।ভগবানের সত্যিকারের ভক্তি হলো, প্রকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত প্রকৃতি,মানুষ ও জীবজন্তুদের উপর সম্মানের সাথে ভালোবাসা, মানবতা দেখানো এবং  নিঃস্বার্থভাবে সেবা করা।রীতি-নীতি আমাদের পথ দেখাতে পারে, কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষের  প্রতি সমান ভাবে ভালোবাসা ও সৎকর্মই ভক্তিকে সত্যিকারের অর্থ দেয়।ভগবানকে  খুঁজতে  দূরে যেতে হয় না।প্রকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত মানুষ ও জীবজন্তুদের সেবার মধ্যেই ভগবানের সন্ধান পাওয়া যায়।“  

 

 
 
 

Comments


আধুনিক   সাহিত্য

Subscribe Form

Thanks for submitting!

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Facebook
  • Facebook

©2020 by moner kichu kptha. Proudly created with Wix.com

bottom of page